August 11, 2020, 9:11 pm

News Headline :
ইএমআইএস কর্মকর্তাদের অদক্ষতা: ভুল এমপিও শিট আপলোড, হবিগঞ্জে ইনডেক্সবিহীন কর্মচারী ষাটোর্ধ ২ ব্যক্তিকেও এমপিওভুক্ত ডিএসইতে লেনদেনের সময় আধা ঘন্টা বাড়ল হবিগঞ্জে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষ ফারুকের দায়ের করা অভিযোগের লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান পুঁজিবাজারে আসতে বিনিয়োগকারীদে নিরুৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা পুঁজিবাজার উপকৃত হবে না বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারী জালিয়াতি করে অধ্যক্ষের এমপিওভুক্তি, জড়িতদের তলব জালিয়াতি করে ২৩ বছর শিক্ষকতা, এমপিও বন্ধসহ সরকারি কোষাগারে বেতন ফেরতের নির্দেশ, মাদ্রাসা শিক্ষায় জাল-জালিয়াতি সবচেয়ে বেশী!! হবিগঞ্জে সদ্য এমপিও ভুক্ত মাদ্রাসায় কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ নাটের গুরু হবিগঞ্জ দারুছুন্নাত কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ফারুক মিয়া শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার নগদ অর্থ বিতরণ রবিবার থেকে চালু হচ্ছে শেয়ারবাজারের লেনদেন বায়তুল মোকাররমে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত
হবিগঞ্জে জামায়াত নেতা ও কাজীর মুহুরি ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে কাবিন-তালাক বাণিজ্যের নানা অভিযোগ

হবিগঞ্জে জামায়াত নেতা ও কাজীর মুহুরি ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে কাবিন-তালাক বাণিজ্যের নানা অভিযোগ

Share-Khabar copy

স্টাফ রিপোর্টার :- হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার উবাহাটা ইউনিয়নের কাজীর সহকারীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দূর্নীতি ও প্রতারণার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। চুনারুঘাট উপজেলার ৭ নং উবাহাটা ইউনিয়নের নিকাহ্ রেজিষ্টার (কাজীর) দ্বায়িত্বে আছেন হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর মাওলানা মুখলিছুর রহমান। জেলা জামাতের শীর্ষ নেতা হওয়ায় দলীয় কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকার কারণে মাঠপর্যায়ে কাবিন লেখার মুহুরির দায়িত্ব দিয়েছেন জামাতের আরেক নেতা কাছিশাইল গ্রামের (ঘর জামাতা) আহমদুর রহমান ভূঁইয়াকে। কাজীর মুহুরি হয়েও আহমদুর রহমান ভূঁইয়া নিজেকে কাজী পরিচয় দিয়ে কাবিন রেজিষ্ট্রি, কাবিন বাতিল, ভুয়া জন্ম সনদ তৈরি করে বাল্য বিয়ে রেজিষ্ট্রি, স্কুল কলেজ পড়ুয়া প্রেমিক জুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে ছাড়াই নিকাহ্ রেজিষ্টার বালামে বর কনের স্বাক্ষর নিয়ে কাবিন হয়ে গেছে অজুহাত দেখিয়ে সেই কাবিন বাতিল করার নামে প্রেমিক জুটির উভয় পরিবারকে জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, কাজীর সহকারী আহমদুর রহমান ভূঁইয়া বিয়ের কাবিন রেজিষ্ট্রি ও বাতিলের নাটক সাজিয়ে অভিনব কৌশলে গ্রামের সহজ সরল মানুষের সাথে প্রকাশ্যে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও ছেলে ও মেয়ে ঘটিত ব্যাপার হওয়ায় মান সম্মানের ভয়ে কেউ কাজী ও তার সহকারীর বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না। আহমদুর রহমান ভূঁইয়ার টার্গেট থাকে স্কুল কলেজ মাদ্রাসায় পড়ুয়া অপ্রাপ্ত বয়স্ক বর কনে। অভিভাবকদের সম্মতিতে যদি অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে মেয়ের বিয়ের আয়োজন করা হয় তাহলে কম্পিউটার দিয়ে জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতি করে প্রাপ্ত বয়স্ক দেখানোর অজুহাতে প্রতিটি কাবিন ও ভুয়া জন্ম নিবন্ধন তৈরি বাবদ কাজীর মুহুরি আহমদুর রহমান ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। অবিভাবকের গোপনে স্কুল কলেজ পড়ুয়া অপ্রাপ্ত বয়স্ক প্রেমিক জুটিকে ” আগে কাবিন করলে পরে অভিভাবক মেনে নিয়ে বিয়ে করাতে বাধ্য হবে ” এই প্রলোভন দেখিয়ে কাবিন রেজিষ্ট্রির বালামে বর কনের স্বাক্ষর নিয়ে বেশ কয়েকটি পরিবারকে ব্ল্যাক মেইলিং করে কাবিন বাতিলের নামে মুক্তিপণ আদায়ের মত মোটা অংকের চাদা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি বুদ্ধি প্রতিবন্ধীরাও কাজীর মুহুরি আহমদুর রহমান ভূঁইয়ার কাবিন বাণিজ্য থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এমনই একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরজমিন তদন্ত করে দেখা যায়, গত মাসের ২৪ তারিখ কাজীর সহকারী আহমদুর রহমান ভূঁইয়া ৭ নং উবাহাটা ইউনিয়নের শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রীজ এলাকার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী আব্দুর রহমান নামের এক যুবককে মোবাইলে সুন্দরী একটা মেয়ের ছবি দেখিয়ে ওই মেয়ের সাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কাবিন রেজিষ্ট্রির বালামে বরের জায়গায় আব্দুর রহমানের স্বাক্ষর নেন। পরদিনই অভিযুক্ত আহমদুর রহমান ভূঁইয়া ভিকটিম আব্দুর রহমানের অভিভাবককে জানান “আপনার ছেলের কাবিন রেজিষ্ট্রি হয়ে গেছে “। বিয়ে কোথায় হয়েছে ছেলে মেয়ের পক্ষে কে ছিল জানতে চাইলে তিনি জানান বিয়ে হয়নি শুধু কাবিন রেজিষ্ট্রি হয়েছে “। ইসলামি শরিয়তে ও প্রচলিত আইনে স্বাক্ষীদের সামনে আগে বিয়ে পড়ানো হবে পরে বর কনে সহ উপস্থিত বর কনের অভিভাবকরা স্বাক্ষী দেয়ার নিয়ম থাকলেও কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কাজীর সহকারী আহমদুর রহমান ভূঁইয়া আগে কৌশলে কাবিনের বালামে ছেলে বা মেয়ের স্বাক্ষর নিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে উভয় পরিবারকে জিম্মি করেন। (এ প্রতিবদকের হাতে অডিও রেকর্ড বাল্য বিবাহ ও টাকা আদায়ের বেশকিছু ডকুমেন্টস আছে)। পরে আব্দুর রহমানের পরিবার কনের পরিচয় ও কাবিনের কপি চাইলে কাজীর সহকারী আহমদুর রহমান ভূঁইয়া কনের জন্ম নিবন্ধনের কপি ও কাবিনের একটি রশিদ দেন। যার বালাম নং ৩/১৯, ক্রমিক নং ১৯৭ এবং পৃষ্ঠা নং ৯৭। যা ওই বইটি উদ্ধার করে তদন্ত করলেই প্রতারণামূলক জালিয়াতি ও বাল্য বিয়ের বিষয়টি প্রমাণ হবে। কনের জন্ম নিবন্ধনের সনদ যাচাই করতে গিয়ে মুহুরি আহমদুর রহমান ভূঁইয়ার জন্ম সনদ জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। কনে যে মাদ্রাসার ছাত্রী ওই মাদ্রাসার জেডিসি ও দাখিল পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশনে জন্ম তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০০৩ ইংরেজি অর্থাৎ কনের বয়স ১৭ বছর যা প্রচলিত আইনে বাল্য বিবাহ হিসেবে গণ্য হওয়ায় এটা দণ্ডনীয় একটি অপরাধ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2020
Design & Developed BY SHAH RANA